Description
গভীর রাতে নিষ্প্রদীপ দেবতা জেগে বসে আছে অনেক দূরে। পাহাড়ের মাথায় শিবকে একবার দেখার জন্য ঋদ্ধির মন যে কতটা খারাপ হয়, তা সে কখনও কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারে না। অর্জুন! অর্জুনের মতো হওয়ার কথা মুখে বলা সহজ। বাস্তব এত সহজ নয়। গভীর রাতে শূন্য দৃষ্টিতে বসে থাকে সে। কোনো শব্দ নেই, কোনো অক্ষর নেই, কোনো আলো নেই।
হাঁসফাঁস করতে থাকে সে দিনের পর দিন, সারারাত। অঙ্গহানি, বস্ত্রহরণ, নচিকেতা তাল, পাশুপতাস্ত্র… কোনটা সত্যি, কোনটা কল্পনা? অর্জুন, তুমি আছ নাকি নেই?
অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার আগে একবার কি তাহলে সে ফিরে যাবে একুশ বছর আগের জায়গায়? যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, যখন বনবাস থেকে ফিরে এসে নিজেরই মানুষদের বিরূদ্ধে কুরুক্ষেত্রে দাঁড়াতে হয় ন্যায়প্রতিষ্ঠার জন্য, — তখন কি অর্জুনসারথির শরণাপন্ন হওয়াই সর্বশ্রেষ্ঠ সমাধান নয়?
মেঘগর্জন।
অন্ধকার গাছ।
জলের কালো ফোঁটা।
এমন সব রাতে কুয়াশার মতো স্মৃতিরা ভেসে বেড়ায়।
তারপর তারা নষ্ট হয়, ভ্রষ্ট হয়।
দিশাহারা হতে হতে গভীর জলে ডুবে যায়।
স্মৃতিহীনের কি কোনো কষ্ট থাকে?
স্মৃতিহীনের কি কোনো বাঁধন থাকে?
স্মৃতিহীনের কি কোনো ভালোবাসা থাকে?
তবে নষ্ট হলে সমগ্র নষ্ট হওয়াই তো ভালো।
নয়তো দোটানায় থাকার ভয়।
রাত শেষ হলে তখন থাকবে শুধু শিশিরে ভেজা পথ।
একাকী চলে যাওয়ার পথ।
বাকি সব ছাই উড়ে যায়, ধুয়ে যায়।
****
প্রেমে কি সবসময়ই দ্বন্দ্ব থাকে? নাকি সব বিরোধের অবসানে প্রেমের জন্ম? আমাদের জানার সমান্তরালে সে কোন জগৎ যা নিরন্তর আমাদের ভাগ্যগণনা করে? যা নিরন্তর আমাদের নিয়তিকে বদলে দেয়?
****
একলব্য প্রকাশন থেকে সেমন্তী মুখোপাধ্যায়ের লেখা “বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি” দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।



Reviews
There are no reviews yet.